জুলাইয়ের হারিয়ে যাওয়া নারী কণ্ঠস্বর খুঁজে বের করবো: নাহিদ ইসলাম

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে সারাদেশে যে বিপুলসংখ্যক নারী রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তাদের অনেকের কণ্ঠস্বর পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। সেই সব নারী কর্মীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশাগুলো সামনে নিয়ে আসা এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম বড় শক্তি ছিল নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তাই যারা আন্দোলনের সময় সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের কণ্ঠ যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাতীয় নারী শক্তি’র আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যত বড় গণআন্দোলন হয়েছে, সেখানে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন গণআন্দোলনেও নারীরা শুধু সমর্থন দেননি, বরং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব আন্দোলনে সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যও অনেক সময় নারীরাই হয়েছেন। তবুও নারীরা নিজেদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে কখনো পিছিয়ে থাকেননি।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনের সূচনালগ্নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা আন্দোলনকে নতুন মোড় দেয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অগ্রভাগে নারীরা থাকায় তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই সময় ঢাকা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য ছাত্রী রাতের বেলায় রাজপথে নেমে এসে আন্দোলনে অংশ নেন। ফলে আন্দোলনের একটি নৈতিক শক্তি তৈরি হয় এবং তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় থাকলেও পরবর্তী সময়ে অনেক নারী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত থাকতে পারেননি। সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক নানা বাস্তবতা, পারিবারিক চাপ এবং বিশেষ করে সাইবার বুলিংয়ের মতো সমস্যার কারণে অনেকেই পিছিয়ে গেছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীদের লক্ষ্য করে যেভাবে অপপ্রচার ও হয়রানি চালানো হয়েছে, তা অনেককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে এবং রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নারীদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘জাতীয় নারী শক্তি’ কাজ করবে। এই সংগঠন এনসিপির সহযোগী হিসেবে কাজ করলেও নারীদের বিষয়গুলোকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরবে এবং তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করবে। একই সঙ্গে সারাদেশে নারীদের সংগঠিত করা, তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য এই সংগঠন কাজ করবে।

সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী কর্মী ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সরকারি দলের সংসদীয় সভা ১১ মার্চ

» লন্ডনে কমনওয়েলথ বৈঠকে যোগ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

» ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু কাল

» ঈদযাত্রায় ট্রেনের শেষ দিনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে আজ

» জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল

» হাদি হত্যা : গ্রেফতার দুজনকে দেশে ফেরানো প্রসঙ্গে যা বললেন আইজিপি

» আজ সোমবার রাজধানীর যেসব দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ

» সরাইল-আশুগঞ্জকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব: রুমিন ফারহানা

» ঈদুল ফিতরে সংবাদপত্রে ৫ দিনের ছুটি দাবি ডিআরইউর

» অরাজকতা নয়, সরকারকে কাজ করতে দিন : মির্জা আব্বাস

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জুলাইয়ের হারিয়ে যাওয়া নারী কণ্ঠস্বর খুঁজে বের করবো: নাহিদ ইসলাম

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে সারাদেশে যে বিপুলসংখ্যক নারী রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তাদের অনেকের কণ্ঠস্বর পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। সেই সব নারী কর্মীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশাগুলো সামনে নিয়ে আসা এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম বড় শক্তি ছিল নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তাই যারা আন্দোলনের সময় সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের কণ্ঠ যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাতীয় নারী শক্তি’র আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যত বড় গণআন্দোলন হয়েছে, সেখানে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন গণআন্দোলনেও নারীরা শুধু সমর্থন দেননি, বরং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব আন্দোলনে সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যও অনেক সময় নারীরাই হয়েছেন। তবুও নারীরা নিজেদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে কখনো পিছিয়ে থাকেননি।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনের সূচনালগ্নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা আন্দোলনকে নতুন মোড় দেয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অগ্রভাগে নারীরা থাকায় তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই সময় ঢাকা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য ছাত্রী রাতের বেলায় রাজপথে নেমে এসে আন্দোলনে অংশ নেন। ফলে আন্দোলনের একটি নৈতিক শক্তি তৈরি হয় এবং তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় থাকলেও পরবর্তী সময়ে অনেক নারী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত থাকতে পারেননি। সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক নানা বাস্তবতা, পারিবারিক চাপ এবং বিশেষ করে সাইবার বুলিংয়ের মতো সমস্যার কারণে অনেকেই পিছিয়ে গেছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীদের লক্ষ্য করে যেভাবে অপপ্রচার ও হয়রানি চালানো হয়েছে, তা অনেককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে এবং রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নারীদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘জাতীয় নারী শক্তি’ কাজ করবে। এই সংগঠন এনসিপির সহযোগী হিসেবে কাজ করলেও নারীদের বিষয়গুলোকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরবে এবং তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করবে। একই সঙ্গে সারাদেশে নারীদের সংগঠিত করা, তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য এই সংগঠন কাজ করবে।

সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী কর্মী ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com